চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের খ্যাতিমান গবেষক প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁকে নিজেদের স্বার্থে প্রভাবিত করার চেষ্টা শুরু করে। ফ্যাসিবাদী আমলে বৈষম্য ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ওই গোষ্ঠীর কয়েকজন কর্মকর্তা ২/৩ ধাপ পদোন্নতিও আদায় করে নেয়। এমনকি শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগপ্রাপ্ত বা বিশেষ বিবেচনায় পাস করা ব্যক্তিরাও পরিচালকের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মেধাবী ও যোগ্য টিম নিয়োগ করলেও, মেধাহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট একটি চক্র তাদের ঘিরে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্যাসিবাদী সময়কালে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ৯৮৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে তারা পুনরায় যোগদান করেন। তবে ২০১১ ও ২০১২ সালে চাকরিচ্যুতির আগে তারা যে পদোন্নতির অধিকারী ছিলেন তা দেওয়া হয়নি। বর্তমান প্রশাসন প্রায় সাড়ে ছয়শ’ কর্মকর্তাকে ‘ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি’ প্রদান করলেও সহকারী রেজিস্ট্রার/সমমান থেকে উপ-রেজিস্ট্রার/সমমান পদে পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করা হয়।

সূত্র অনুযায়ী, একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করছে, যাতে তাদের পছন্দমতো কর্মকর্তাই সুবিধা পায়।

প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ. টি. এম. জাফরুল আজমসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি সহকারী রেজিস্ট্রার/সমমান থেকে ১৩ জনকে উপ-রেজিস্ট্রার/সমমান পদে পদোন্নতির সুপারিশ করে। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে এ পদোন্নতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ‘দিচ্ছি-দিচ্ছি’, ‘হবে-হবে’—এমন আশ্বাস দিলেও পদোন্নতি আর কার্যকর হয়েছে বলে দেখা যায়নি। ফলে বিষয়টি এখন ‘টপ অব দ্য ক্যাম্পাস’ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে দেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের গাজীপুর জেলা সভাপতির ভাতিজা নিজে যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অন্যদের পদোন্নতিও আটকে রেখে চাপ সৃষ্টি করছেন। দলীয় প্রভাব, হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েই পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঠিকাদারএই ভাতিজা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও ২০০৩ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান। বর্তমানে একই কায়দায় উপ-রেজিস্ট্রার পদোন্নতি আদায়ের চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, তাকে ইতোমধ্যে উপ-রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে একটি ওষুধ কোম্পানির সাবেক মার্কেটিং অফিসারও একই সময় সহকারী রেজিস্ট্রার পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনিও দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে উপ-রেজিস্ট্রার এবং এমনকি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ প্রকৃত যোগ্য কর্মকর্তারা নানা বঞ্চনা ও হতাশায় দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরছেন।

এনএইচ