রোববার (২৫ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, বি.সি.এস. (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে ওএসডি হিসেবে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সংযুক্ত থাকবেন।
মূলত, অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের (হেফাজতে ইসলামের) পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নাদিরা ইয়াসমিন ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন এবং কোরানের আইন বিরোধী মন্তব্য করেছেন।
তারা বলেন, একজন ইসলামবিরোধী শিক্ষক কীভাবে এখনো নরসিংদীতে অবস্থান করছেন, তা আমাদের ইমানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হেফাজতে ইসলামী নরসিংদী জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকের কাছেও নাদিরা ইয়াসমিনের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
তবে, এমন ঘটনায় দেশের ১৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক গত (২৪ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে নাদিরা ইয়াসমিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান। বিষয়টি নিয়ে নাদিরা ইয়াসমিনও স্থানীয় থানায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানা গেছে।
বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিন নারী অধিকার বিষয়ে একটি প্রকাশনা বের করেছেন। সেখানে সম্পত্তির সমঅধিকারসহ নারীদের অধিকার বিষয়ে লিখেছেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কারও সে বিষয়ে দ্বিমত বা ভিন্নমত থাকতে পারে। সেটা নিয়ে প্রয়োজনে আলোচনা বা প্রকাশনায় লেখনীর মাধ্যমেও যুক্তি, তর্ক-বিতর্ক হতে পারে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে অধ্যাপক নাদিরা ইয়াসমিনকে সাতক্ষীরা বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল ও নাদিরা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা বন্ধে সরকার-প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এসএইচ