সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকেই শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে চারপাশে জমায়েত হতে থাকেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফেল পরীক্ষার্থীরা। কেউ এসেছেন চট্টগ্রাম থেকে, কেউ রাজশাহী, রংপুর কিংবা খুলনা থেকে। হাতে পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড- যেখানে লেখা, ‘ভাইভায় প্রহসন মানি না’, ‘একই নম্বরে দুই রায়, মানিনা মানবো না’, ‘সবার জন্য সনদ চাই, দিতে হবে দিতে হবে’।
এসময় উপস্থিত আন্দোলনকারীরা এনটিআরসিএর অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত ও স্বচ্ছতার দাবি জানান। তারা বলেন, এই ভাইভা একটি প্রহসন ছাড়া কিছু নয়, এটি বাতিল করে পুনর্মূল্যায়নই একমাত্র সমাধান। ভাইভা পর্বে একেকটি বোর্ডে একেকরকম মানদণ্ড প্রয়োগ করে পাশ-ফেলের বিভাজন তৈরি করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ফলাফল প্রকাশের ১৯ দিন পর ‘কারিগরি ত্রুটির কথা বলে ১১৩ জন নতুন পাশপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে এনটিআরসিএ প্রক্রিয়াটিকে আরও বিতর্কিত করেছে।
তারা বলছেন, যারা ভাইভায় উপস্থিত ছিলেন এবং সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে, তাদের সবাইকে অবিলম্বে সনদ দিতে হবে। একইসঙ্গে দাবিও তুলেছেন, হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে প্রায় ১৯ লাখ প্রার্থী আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন ৮১ হাজার ২০৯ জন। চূড়ান্তভাবে ৬০ হাজার ৬৩৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। এগুলো পূরণে সফল প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।
এমএম