বৃহস্পতিবার ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পেজ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদ সংস্কার ও এসি স্থাপনের ব্যাপারে ডাকসু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি। অফিসিয়াল পেজে এহেন মিথ্যা ও মসজিদ নিয়ে শুরু থেকে প্রশাসনের একাংশের নোংরা রাজনীতি সবটুকু খোলাসা করতেছি ‘

তিনি লেখেন, ‘ডাকসুর ফান্ড পাওয়ার পর ডোনারের সাথে নিয়ে আমরা তৎকালীন ভিসি স্যারের অফিসে মিটিং করি। ভিসি স্যার মৌখিক অনুমোদন প্রদান করে এপ্লিকেশন দিতে বলেন। পরবর্তীতে আমি, আনাস ও শাহিন মসজিদ সংস্কারের জন্য একটা এপ্লিকেশন করলে মসজিদ কমিটির সভাপতি ট্রেজারার স্যার একটি মিটিং করে আমাদের আবেদন কোনো কারণ-ব্যাখ্যা ছাড়া পুরোপুরি খারিজ করে দিলেন।’

‘আমরা হতাশ হয়ে আবার ভিসি স্যারের নিকট যাই। স্যারকে সাদিক ভাইয়ের সাইনে আবার একটা এপ্লিকেশন দিলে উনি সেটার অনুমোদন করে দেন এবং ট্রেজারার অফিসে সেই এপ্লিকেশন ফরওয়ার্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।’

‘তখন ট্রেজারার স্যার প্রধান প্রকৌশলীর নিকট মসজিদ সংস্কার কাজের আরেকটি সামগ্রিক বাজেট তৈরি করার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই আলোকে প্রধান প্রকৌশল ও নির্বাহী প্রকৌশল (বিদ্যুৎ) দপ্তরের সমন্বয়ে সামগ্রিক সম্ভাব্যতা যাচাই করে আরেকটি বাজেট তৈরি করে কোষাধ্যক্ষ বরাবর পেশ করে।’

‘সেই বাজেটে প্রধান প্রকৌশলী বিভাগ ও নির্বাহী প্রকৌশল বিদ্যুৎ ১০৫ টন এসি স্থাপনের সুপারিশ করে। যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্প্রতি যে বিবৃতি দিয়েছে তার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।’

মাজহারুল ইসলাম লেখেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমরা স্পন্সরের ফান্ড থেকে আলাদা একটা সাবস্টেশন বসাতে চেয়েছিলাম। প্রকৌশল বিভাগ থেকে সামাজিক ভবনের সাব স্টেশন চালু করার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। এই স্টেশনটির সক্ষমতা ১৮০০ কিলোওয়াট, আমাদের মসজিদের জন্য প্রয়োজন ২০০ কিলোওয়াট। দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে এটা চালু হচ্ছে না। প্রকৌশল বিভাগের পরামর্শ মেনে আমরা এই সাব স্টেশন চালুর উদ্যোগ নেই।’

‘ভিসি স্যারের নিকট সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবস্টেশন চালুর জন্য আবেদন করলে উনি অনুমোদন দেন এবং সে অনুযায়ী আজ থেকে প্রায় দুমাস আগে ঠিকাদার ৩০ লাখ টাকা জমা করেন। টাকা জমা হয়ে যাওয়ার পর বলা হয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে কিন্তু এখন অবধি কেন বিদ্যুৎ চালু না করে এখন এসব বলা হচ্ছে। এটা একদম নগ্ন রাজনীতি।’

‘বর্তমান ভিসি স্বয়ং ওবায়েদ স্যার দুমাস আগে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে একমাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরেও কেন চালু হচ্ছে না। এই বিদ্যুৎ কানেকশন চালু হলে শুধু মসজিদই নয়, বরং বাকি ১৬০০ কিলোওয়াট প্রশাসন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ সহ আশেপাশে প্রয়োজনীয় জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।’

তিনি লেখেন, ‘বলা হচ্ছে, অনুমতি নেওয়া হয়নি। অথচ মসজিদ সংস্কারের কাজ শুরুর শুভ উদ্বোধনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিজে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেছেন। এছাড়া আমি নিজে কোষাধ্যক্ষ স্যারকে কাজ চলাকালীন সময়ে পুরো মসজিদের কাজ ঘুরেফিরে দেখিয়েছি। তিনি আমাকে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।’

‘মসজিদ সংস্কার কাজ শেষ হলে ভিসি নিয়াজ স্যার নিজে তৎকালীন দুইজন উপদেষ্টা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ. ফ. ম খালিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবিরকে দাওয়াত করেন। সংস্কার কাজের উদ্বোধনের সময় দুইজন উপদেষ্টাসহ ভিসি স্যার ও ডাকসুর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’

‘এত ডকুমেন্টস ও প্রমাণ থাকার পরেও স্বয়ং ভিসি স্যার অনুমতি ও দুজন উপদেষ্টাসহ উদ্বোধন করার পরেও যদি বলেন অনুমতি নেওয়া হয়নি, তাহলে আমাদেরকে বলেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার কাছে অনুমতি নেওয়া হলে আসলে অনুমতি নেওয়া হয়।’

ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান দুজন ভিসি স্যার বিদ্যুৎ কানেকশন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পরেও যদি সেই নির্দেশনায় কাজ না হয়, তাহলে কার নির্দেশনা নেওয়া প্রয়োজন আমাদের কাইন্ডলি জানাবেন।’

এমএম