শুক্রবার ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন রাকিবুল হাসান সৌরভ, তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাবির জীববিজ্ঞান অনুষদের সহসভাপতি ছিলেন। রোকেয়া হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নিতু রানী সাহা হল ছাত্রলীগের উপ-গণযোগাযোগ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের স্যার এ এফ রহমান হলের সহ-সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ছাত্রদলের হল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন।

বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের গেস্টরুমে জুনিয়রদের নির্যাতনে অভিযুক্ত অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং দর্শন বিভাগের নিবিড় খান লোহানী যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসানকে ‘প্রলয় গ্যাং’-এ যুক্ত থাকা এবং ছাত্রলীগের হয়ে নির্যাতনকারী হিসেবে গত জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা বয়কট করেছিলেন। গত বছরের ১৫ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অভিযুক্ত আহমেদ জাবির মাহাম হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে কার্যনির্বাহী সদস্যের পদ পেয়েছেন। ছাত্রলীগের সেক্রেটারি তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী হিসেবে কর্মসূচিতে দেখা যাওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস পুতুল কুয়েত মৈত্রী হলের সদস্যসচিব করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আওয়ামী লীগের একতরফা নির্বাচনে ছাত্রলীগের ঝিনাইদহ-৪ আসনের সমন্বয়ক টিমের শিবলী রহমান পাভেল হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ছাত্রদলের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন। ছাত্রলীগের নাটোর-২ আসনের সমন্বয়ক টিমের মো. আজিজুল হাকিম মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ছাত্রদলের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পেয়েছেন।

এ ছাড়াও নানা সময়ে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে দেখা গেছে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আল হক শান্ত, অমর একুশে হলের সদস্যসচিব আব্দুল হামিদ, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জার গিফারী ইফতা, যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ শাহরিয়ার অপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জনি প্রামাণিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মহিবুল হাসান আকন্দ, যুগ্ম সদস্যসচিব রোমান মিয়া, বিজয় একাত্তর হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আকরানুল ইসলাম, শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম মোমিতুর রহমান পিয়াল, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা হোসেন লিখন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদমান সাকিব শাওন, যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান সরকার, সদস্য ইমতিয়াজ আহমেদ, কুয়েত মৈত্রী হলের সদস্যসচিব জান্নাতুল ফেরদৌস পুতুল, ফজলুল হক মুসলিম হলের আহ্বায়ক মো. আবিদ হাসনাত, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমরান হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইমরান হোসেন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার লিওন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাথ তারিক জীম, যুগ্ম আহ্বায়ক জিন্নাহ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সজিব হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাসেল হোসেন, রোকেয়া হলের সদস্যসচিব আনিকা বিনতে আশরাফ, স্যার এ এফ রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুনতাহা মিথ, সদস্য বাদশাহ বিন ফরহাদ আলভী, মাস্টারদা সূর্য সেন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিদুল আলম ফাহিম, কবি সুফিয়া কামাল হলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকিয়া সুলতানা আলো, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ মাহমুদ, জগন্নাথ হলের সদস্য ধ্রুব রায়সহ মোট ৬০ জনকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হলে সমালোচনার মুখে মাত্র ছয়জনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ছাত্রদল। রবিবার দিবাগত রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল কমিটির আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আল হক শান্ত ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান সৌরভ, শামসুন নাহার হল কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নিতু রানী সাহা, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু শেখ এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল কমিটির সদস্য আহমেদ জাবির মাহাম ও এন এস সায়মনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

এদিকে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল কমিটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূর আলম ভূঁইয়াকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে লিখিত প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিকেলে ঢাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক ওয়াসি উদ্দিন তামী প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনএইচ