রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে (৪৭) গ্রেফতারের পর এসব তথ্য পেয়েছে এসআরবি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।

এর আগে সোমবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে আরজু রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

দুই হাজারের বেশি মানুষ পাচারের শিকার

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটির মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রতারণা ও মানবপাচারের শিকার হয়েছেন। আরজু রহমান গ্রেফতারের পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এসআরবি জানায়, আরজু রহমান প্রায় ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তিনি এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে।

যেভাবে পাচার করত চক্রটি

এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, চক্রটি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত। সার্বিয়া ও বেলারুশ হয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠাত। পরে নেপাল বা শ্রীলঙ্কা হয়ে তাদের মিসর ও লিবিয়ায় নেওয়া হতো। সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হতো। এভাবে কয়েকজন ভুক্তভোগী বিদেশে গিয়ে আটকা পড়েছেন।

এসআরবি জানায়, ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুয়া কাগজপত্রে নারীদের পাচার

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রটি ভুয়া ভিসা ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে নারীদেরও বিদেশে পাচার করত বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁদের বিভিন্ন দেশে নিয়ে নির্যাতন করা হতো বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

পাচারের শিকার কয়েকজন নারী মিসর থেকে পালিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেছেন। তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো কয়েকজন নারী মিসরে আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

গ্রেফতার আরজু রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এমএম