এ বিষয়ে সোমবার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় না করার বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

পরিপত্রে বলা হয়, এক বা একাধিক দাগে খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি একত্রে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন। এজন্য সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলাদি পর্যালোচনা করতে হবে। পৃথকীকরণ অবশ্যই সরেজমিনে ও বাস্তবভিত্তিক হতে হবে।

নামজারি আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার আওতাধীন কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরেজমিনে তদন্ত করাবেন। এ সময় সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি আলাদাভাবে চিহ্নিত করে যৌথ স্বাক্ষরিত খণ্ড নকশা প্রস্তুত করতে হবে।

প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও দলিলাদি পর্যালোচনা করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নামজারি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি পৃথক করা হলে এজন্য আলাদা বিবিধ কেস নথি সৃজনের প্রয়োজন হবে না। এ কার্যক্রম নামজারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সম্পন্ন হবে। তবে নামজারি ছাড়া সরকারি স্বার্থে বা সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথকীকরণের প্রয়োজন হলে আলাদা বিবিধ কেস নথি সৃজন করতে হবে।

ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের জন্য করা নামজারি শুধু তফসিলে বর্ণিত ওই অংশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট দাগ ও খতিয়ানের অবশিষ্ট খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির ওপর নামজারির মাধ্যমে সৃষ্ট খতিয়ানের মালিক বা মালিকদের কোনো স্বত্ব, মালিকানা, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হবে না।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ নামজারির আওতাবহির্ভূত থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাগের জমির মধ্যে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশ রয়েছে উল্লেখ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন করা হলে বিষয়টি সৃজিত খতিয়ানের মন্তব্য কলামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এছাড়া সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে বা আদালতের কোনো রায় বা আদেশ থাকলে তা বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালতের আদেশে কোনো স্বত্ব নির্ধারিত হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা নতুন ফিচার (সুবিধা) সংযোজনের ব্যবস্থা করতে প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমএম