শনিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বাইতুল মা’মুর মসজিদ অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) সোশ্যাল সার্ভিসের উদ্যোগে দিনব্যাপী “কমিউনিটি ফেস্ট” অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুনা সোশ্যাল সার্ভিসের চেয়ারম্যান ও মুনার অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুনা ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আরমান চৌধুরী, নিউইয়র্কের ৭ম ডিস্ট্রিক্ট কংগ্রেশনাল প্রার্থী ক্লেয়ার বেলডেজ, কাউন্সিল মেম্বার স্যানডি নার্স, ডেমোক্রেটিক অ্যাসেম্বলি প্রার্থী ডেভিড অর্কিন, নিউইয়র্ক পুলিশের ডেপুটি কমিশনার এলডেন ফোস্টার, ডেপুটি ইন্সপেক্টর ডিয়ন হিন্স, মেয়র অফিসের কর্মকর্তা, মুসলিম লিয়াজোঁ, নিউইয়র্ক পুলিশের লেফটেন্যান্ট এমডি লতিফ, মোশাররফ মওলা সুজন প্রমুখ।
ড. জাহাঙ্গীর কবির এবং ব্রুকলিন ইয়ুথের সভাপতি মুসাব্বির হুসাইনের সঞ্চালনায় কমিউনিটি ফেস্টের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন নিউইয়র্ক সাউথ জোনের প্রেসিডেন্ট মাওলানা এমদাদুল্লাহ। সদস্য সচিব ছিলেন বেলাল উদ্দিন।
ইমাম দেলোয়ার বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বে আজ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও শান্তি নেই। কোনো কারণ ছাড়াই আজ মুসলমানদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে যুদ্ধের দামামা বাজছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। মানুষ আজ শান্তি চায়। এজন্য সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে আসতে হবে। এ জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের অনুশাসন না থাকার কারণে আমাদের পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে। পারিবারিক জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মুনা একটি পরিবার—উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চাই।
সমাজসেবামূলক কাজে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা উন্নত জীবনের জন্য আমেরিকায় এসেছি, কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না—আমাদের রবের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং সব কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। আমরা যদি দুনিয়ার মোহে আটকে যাই, তবে দুনিয়া ও আখেরাত—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে এবং তাদের ইসলামের ছায়াতলে আনতে হবে, নইলে পরিবারগুলো ভেঙে যাবে। এ জন্যই মুনা কাজ করছে। মুনা একটি পরিবার—এই পরিবারকে বাঁচাতেই আমরা কাজ করছি। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গ্লেনমোর অ্যাভিনিউ, পাইন ও ক্রিসেন্ট স্ট্রিটে সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রোগ্রাম শুরু হয়। সকাল থেকে শিশুদের জন্য রাইডের ব্যবস্থা ছিল। অতিথিদের জন্য তরমুজ, লিচুসহ নানা ফলের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের বইয়ের স্টল বসানো হয়, যেখানে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। এছাড়া শরবত ও জুসের ব্যবস্থাও ছিল। দুপুর ২টা থেকে খাবার পরিবেশন শুরু হয়। প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। এত বড় আয়োজন হলেও পুরো অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
এনএইচ