সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সেন্ট মার্টিন লাইট হাউজ থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামক একটি বোট সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় অপর একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়।

পরবর্তীতে সমুদ্রে ভাসমান বোটটিকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে বোটটির কয়েকজন ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি এফভি ক্রিস্টাল-১ কর্তৃক তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অবহিত করা হয়। এ সময় সেন্ট মার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টহলরত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান বোটটিকে উদ্ধার করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়,বোটটিতে পানি প্রবেশ করতে থাকায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ভাসমান বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় গৃহিণীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বোটটি থেকে উদ্ধারকৃত ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জন মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য চিহ্নিত করত তাদেরকে আটক করা হয় এবং অপর ৬৫ জন মালয়েশিয়া গমনে প্রতারণার শিকার। তাদের অধিকাংশই মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহৃত হয়ে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটক ছিল।

পরবর্তীতে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। আটককৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত বোটটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ সফল অভিযানের মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের আটক করার পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বোটটির ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে বোটে পানি প্রবেশ করায় এতে অবস্থানরত যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

এমএম