স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের সংক্রমণের প্রবণতা উদ্বেগ তৈরি করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়াসহ হামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে ১ হাজার ৩১৬ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণই চূড়ান্ত কারণ কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষার তথ্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করার ঝুঁকি বেশি।
হামের অন্যতম কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। তাই যেসব শিশুর নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম প্রতিরোধী টিকা নেওয়া হয়নি, তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বর ও শরীরে র্যাশসহ হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা, সংক্রমিত ব্যক্তিকে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা রাখা এবং টিকাদানের আওতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ও রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ছে কি না, তা জানতে পরবর্তী দিনের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা শিশুস্বাস্থ্য ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএম





