আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে এবং রাজধানী ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরে সারাদেশে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একদিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওই দিন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৭২ জন রোগী, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। টানা কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজারের কাছাকাছি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন বদলে যাওয়ার কারণে অনেক রোগী দ্রুত প্লাটিলেট কমে যাওয়া এবং ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’-এ আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট না থাকলেও জরুরি ওয়ার্ড ও আইসিইউতে চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমের পর বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা স্বাদু পানিতে এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়মতো এডিস মশা নিধন এবং লার্ভা ধ্বংসের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমানো পানি তিন দিনের বেশি না রাখা, দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা এবং জ্বর হলেই অবহেলা না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশনগুলোকে মশক নিধন অভিযান আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমএম





