সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আদেশে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বিদেশি শিক্ষার্থীরা। হাসপাতাল বন্ধ থাকায় তাদের অর্জিত ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর প্রতিষ্ঠানটির সকল শিক্ষার্থীকে অন্য হাসপাতালে সংযুক্তির নির্দেশ দিয়েছে, তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে।

ভারতের 'ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশন্স, ২০২১'-এর ৪(ক) (২) ধারা অনুযায়ী, একই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস এবং ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে তা ভারতের মাটিতে গ্রহণযোগ্য হবে না।

এ নিয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা গত শনিবার ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। এরপর আজ সকাল থেকে তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরে অপেক্ষা করেন। তবে সেখানেও কোনো কর্মকর্তার সাক্ষাৎ মেলেনি।

আরও পড়ুন: বিসিপিএসে প্রশিক্ষণার্থীদের তালা, অটোমেশন বাতিলের দাবি

আদ্-দ্বীন মেডিকেলের শিক্ষার্থী ডা. খুজাইমা বলেন, তারা নিজেদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন। সমস্যার সমাধানের জন্য দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোথাও থেকে কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরে এসেছেন। এখন যদি এখানেও কেউ তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তারা বর্তমান অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চান।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে দেশের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া আসায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও সাক্ষাৎ পাননি।

ভারতের কাশ্মীর থেকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে পড়তে আসা শিক্ষার্থী ডা. রেজা বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চাইলে অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশনের সুযোগ পেতে পারেন, কিন্তু আমাদের (বিদেশি শিক্ষার্থীদের) ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী একই হাসপাতাল থেকে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি জানান, প্রায় আট বছর ধরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন এবং তার পড়াশোনা এখন শেষ পর্যায়ে। এই মুহূর্তে শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে পুরো ডিগ্রিই অকার্যকর হয়ে পড়বে।

এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কলেজের নিয়মিত একাডেমিক ক্লাস চালু রয়েছে। তৃতীয় বর্ষ থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাসও চলছে। তবে হাসপাতালে কোনো রোগী না থাকায় তারা হাতে-কলমে শেখার (ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস) সুযোগ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

এমএম