বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি এতে তুলে ধরা হয়েছে।

হামের উপসর্গে মৃত্যু ৮২৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু।

অর্থাৎ, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর ফলে দেশে এ রোগের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৭২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৭২ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৮ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। আর ১ হাজার ৪ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

একই সময়ে নতুন করে ৯৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিপরীতে চিকিৎসা শেষে ৮৭৯ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

ফলে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাপ অব্যাহত রয়েছে।

সন্দেহজনক রোগী ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫।

এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ১৪৪ জনের।

অর্থাৎ, সন্দেহজনক ও নিশ্চিত দুই ধরনের রোগী মিলিয়ে গত কয়েক মাসে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ২৮ হাজার

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। অর্থাৎ, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

তবে প্রতিদিন নতুন করে বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে উদ্বেগ

হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তুলনায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যেখানে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হামজনিত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও হালনাগাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে।

চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রয়েছে। নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯৫০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলেও ৮৭৯ শিশু চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, একদিকে নতুন রোগী হাসপাতালে আসছে, অন্যদিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে অনেক শিশুই বাড়ি ফিরছে।

তবে হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এবং প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৯২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এমএম