বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট ও ১১ বছর। আহত সাত বছর বয়সী শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষককে স্থানীয় সেন্ট চার্লস বেন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন শিশু, একজন শিক্ষক ও সন্দেহভাজন হামলাকারী রয়েছেন। হামলাকারী বেন্ড শহরেরই বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে জরুরি সেবা নম্বরে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, কেউ তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালিয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলের ভেতর থেকে জরুরি সেবা নম্বরে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
প্রথম ফোন পাওয়ার প্রায় তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ স্কুলে পৌঁছায়। এর আগেই স্কুলটি লকডাউন করা হয়েছিল।
পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজ জানান, সন্দেহভাজন কিশোর স্কুলের তালাবদ্ধ দরজা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলায় একটি লম্বা বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সেটি ঠিক কী ধরনের অস্ত্র, তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।
হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কি না কিংবা স্কুলের কাউকে আগে থেকে চিনত কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা হামলাকারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পান। পুলিশ বিভাগের যোগাযোগবিষয়ক ব্যবস্থাপক শিলা মিলারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ২ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য এক ব্যক্তির গুলিতে হামলাকারী নিহত হয়ে থাকতে পারে। ওই ব্যক্তি কিশোরটিকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখে তাঁর পিছু নিয়ে ভবনের ভেতরে ঢুকেছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
হামলাকারী কিংবা তাঁকে গুলি করা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
হামলার পর পুলিশ স্কুলের প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে এবং পুরো ভবন নিরাপদ বলে নিশ্চিত করে। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছের একটি গির্জায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিভাবকদের কাছে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জীবন চিরতরে বদলে গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। শিক্ষকসহ সেখানে ৪০ জনের বেশি কর্মী রয়েছেন। ঘটনার পর ওই এলাকার সব স্কুল শুক্রবারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
‘কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে ২৩৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছিল। চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ১৪০টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এস
















