গতকাল রোববার এক সংক্ষিপ্ত ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, “আমি মামলা থেকে অব্যহতি পেতে মাননীয় প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠি লিখেছি। আমার আইনজীবীরা ইতোমধ্যে সেই চিঠি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। আমি আশা করছি যারা দেশের ভালো চান, তাদের সবাই এ পদক্ষেপ সমর্থন করবেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে নেতানিয়াহুর চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হেরজগ এই চিঠিকে ‘বিস্ময়কর’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এটি এমন একটি বিস্ময়কর অনুরোধ— যার গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য আছে। এ ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য ও মতামত গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

এদিকে, নেতানিয়াহুর ভিডিওবার্তা প্রকাশের পরপরই ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনেও মিছিল-সমাবেশ করেছেন।

জনগণের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের এমপিরাও। বিরোধীদলীয় এমপি নামা লাজিমি রোববার বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, “যদি প্রেসিডেন্ট এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে ক্ষমা ঘোষণা করেন, তাহলে ইসরায়েল পুরোপুরি একটা বানানা রিপাবলিকে পরিণত হবে।” এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান ধরেন, ‘ক্ষমার মানে বানানা রিপাবলিক’।

মিছিল সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গাত্মক বিভিন্ন কুশপুতুল নিয়ে এসেছিলেন। ইসরায়েলের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী শিকমা ব্রেসলারও ছিলেন সেই সমাবেশে। নিজ বক্তব্যে তিনি বলেন, “তিনি এই দেশকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছেন। তার কোনো মূল্য না দিয়ে, কোনো দায়িত্ব না নিয়ে এখন তিনি বিচার থেকে অব্যহতি চাইছেন। ইসরায়েলের সাধারণ জনগণ এটা কখনও মেনে নেবে না। এর সঙ্গে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ জড়িত।

এক বার্তায় ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, “নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নিজের অপরাধ স্বীকার করেননি, অনুতাপ প্রকাশ করেননি। তার উচিত রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া। এখানে ক্ষমার কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। তাকে ক্ষমা করা উচিত হবে না।”এমএম