একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

বন্ধ থাকা মেট্রো স্টেশনগুলোর মধ্যে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনও রয়েছে। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে যন্তর মন্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তবে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের প্রতি অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

অভিজিৎ বলেন, আন্দোলনের ৩৪তম দিন চলছে এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ২৬তম দিন। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে তিনি বলেন, ওয়াংচুকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ুক, তা তারা চান না।

সিজেপি প্রধান অভিযোগ করেন, বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে তাদের আন্দোলন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, আন্দোলনকারীদের বদনাম করতে বহিরাগতদের দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করানো হচ্ছে এবং পরে সেই দায় সিজেপির ওপর চাপানো হচ্ছে। এমনকি পুলিশও এ কাজে সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বুধবার সন্ধ্যার পর যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ইন্ডিয়া গেট এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এ সময় কয়েক দফা পাথর নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পুলিশের দাবি, কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাকর্মীদের লাঠি ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির ডাকা আন্দোলন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। গত সোমবার সংসদ অভিযানের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের নেতারা। পরে তাদের আটক করে পুলিশ।

মুক্তির পর বুধবার সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তার দাবিগুলো হলো— নিট কেলেঙ্কারির দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা বলেছেন, সরকার সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে এ ইস্যুতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এনএইচ