বিদেশি শক্তি নয়, শত্রু ঘরের ভেতরেই!

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার কংগ্রেসের মুখোমুখি হয়ে হেগসেথ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য এই মুহূর্তে বিদেশি কোনো শক্তির চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। হেগসেথের ভাষায়:

“এই মুহূর্তে আমরা যাদের শত্রু হিসেবে দেখছি, তারা হলো কংগ্রেসের বেপরোয়া এবং পরাজিত মনোভাবের ডেমোক্র্যাটরা। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রশাসনের রেকর্ড ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট এবং কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ইরান যুদ্ধ পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। হেগসেথ এই প্রশ্ন তোলাকে ‘দেশপ্রেমের অভাব’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ’ বলে উড়িয়ে দেন।

কঠোর অবস্থান: হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

সমঝোতার আশ্বাস: যুদ্ধের পাশাপাশি ‘বিশ্বের সেরা সমঝোতাকারীদের’ মাধ্যমে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আক্রমণাত্মক মেজাজ: বিরোধীদের ‘দুর্বল’ অবস্থান আমেরিকাকে বিশ্বমঞ্চে হাস্যাস্পদ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হেগসেথের এমন মন্তব্যের পর হাউসে হট্টগোল শুরু হয়। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, পেন্টাগন প্রধান সংবিধানের তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী আচরণ করছেন। তাদের দাবি, যুদ্ধের খরচ ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রতিটি মার্কিন নাগরিক ও জনপ্রতিনিধির সাংবিধানিক অধিকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক বিরোধ নয়, বরং আসন্ন দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস এবং কংগ্রেসের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরান পরিস্থিতি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন আমেরিকার খোদ প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তির এমন বিভাজনমূলক মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমএম