বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে হোয়াইট হাউস।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, জাতীয় গড় জ্বালানি মূল্য প্রতি গ্যালনে ৫ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্যে সেই সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান অ্যাকাউন্টিং অ্যাসোসিয়েশন।

এদিকে যুদ্ধের কারণে দেশটির ভোক্তা আস্থাও রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইপসোস ও রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক বলেছেন, উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে তাদের পারিবারিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই জরিপে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে।

চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও। দলটির নেতারা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে এবং প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দলটির নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এক রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, “সামগ্রিক অর্থনীতি নয়, বরং গ্যাসের মূল্যই এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি।”

অন্যদিকে ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন শিল্পখাতে। মার্কিন বিমান সংস্থা থেকে শুরু করে এর মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছে।

তবে ট্রাম্প জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে “ছোট মূল্য” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে এই মূল্য দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা আমাকে প্রভাবিত করছে না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।”

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি পরিবহনের জন্য কিছু শিপিং বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মজুদ থেকে আরও ৫ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ঋণ হিসেবে ছাড় দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ।

তবে রয়টার্স-ইপসোসের আরেক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়েছে। বিপরীতে ৫৩ শতাংশ মনে করেন, এই যুদ্ধ মোটেও মূল্যবান নয়।

এস