এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেই বাংলাদেশে এ নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বহুদিনের অমীমাংসিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বিজেপির এই বিজয় তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথ সহজ করতে পারে।
তিনি দাবি করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বাধীন সরকার তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল। তবে নতুন নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এর সঙ্গে সমন্বয় করে এই ইস্যুতে অগ্রগতি আনতে পারে।
হেলাল আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে, কারণ এই রাজ্যের সঙ্গেই বাংলাদেশের দীর্ঘতম সীমান্ত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, তিস্তা নদী এর পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অস্থায়ী চুক্তি হলেও ২০১১ সালে প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি মূলত পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে।
বাংলাদেশের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় ভাটির অঞ্চলে কৃষি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী থাকলেও এখন পর্যন্ত গঙ্গা ও কুশিয়ারা নদী ছাড়া বড় কোনো চুক্তি কার্যকর হয়নি। তিস্তা, ফেনীসহ অন্যান্য নদী নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তিস্তা চুক্তিতে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করলেও তা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এস