এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কর্ডোফান রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম সুদানের কালোগি শহরে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন নারীও রয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আরএসএফের ড্রোন থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি হাসপাতাল এবং শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। রাজ্য সরকার এই ঘটনাকে আরএসএফ-সমর্থিত সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থ দ্বারা সংঘটিত একটি ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এসব সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, আরএসএফকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের মিত্রদের এই ‘অমানবিক অপরাধের’ জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এক বিবৃতিতে হামলাটিকে শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ইউনিসেফ জানায়, নিহতদের মধ্যে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী ১০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে।

গত মাসে উত্তর ও দক্ষিণ কর্দোফানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে। উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে, যার ফলে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

সুদানের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে, আরএসএফ পশ্চিমে দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যই নিয়ন্ত্রণ করে, উত্তর দারফুরের কিছু উত্তর অংশ বাদে যা এখনো সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানী খার্তুমসহ দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব এবং কেন্দ্রের বাকি ১৩টি রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা সেনাবাহিনীর দখলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে সংঘাতে কমপক্ষে ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং এক কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এনএইচ