এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপরে দমনপীড়ন চালিয়েছে অভিযোগ করে শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন নরেন্দ্র মিশ্র নামে এক আইনজীবী। সে দিনের ঘটনার ভিডিও আদালতকে দেখাতে চেয়েছিলেন তিনি।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশে দিল্লি পুলিশ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং আদালতের বাধ্যতামূলক রায়ও মানেনি। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান বিচারপতিদের নিয়ে একটি স্বাধীন বিচারিক তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত এফআইআর করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

তবে এ নিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি কড়া ভাষায় বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাকারী আইনজীবী জানান, নিটে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সংস্কার-সহ একগুচ্ছ বিষয়কে সামনে রেখে প্রতিবাদ করছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেই সময় প্রধান বিচারপতি ওই আইনজীবীকে থামিয়ে দেন। তাকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে বসে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখনই আইনজীবী মিশ্র পুলিশের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে ভিডিওগুলো দেখাতে যান।

তিনি দাবি করেন, এই ভিডিওগুলোতে কী ভাবে পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি আটকাতে লাঠিচার্জ করেছে, তা স্পষ্ট দেখা গেছে।

এসময় প্রধান বিচারপতি ভিডিওগুলো দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘ভিডিওতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমাদের দেখার সময়ও নেই।’

এরআগে গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টেও একই বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় আদালত। মামলাকারীদের উদ্দেশে বিচারপতিদের মন্তব্য, ‘এই সব ব্যাপারে আদালতকে জড়াবেন না।’

প্রসঙ্গত, ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে তরুণদের প্লাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির ডাকে হাজারো মানুষ মধ্য দিল্লিতে জড়ো হন। আগের রাত থেকেই অনেক আন্দোলনকারী অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিভাবকেরাও বিক্ষোভে অংশ নেন।

তবে দিল্লি পুলিশ সংসদমুখী পদযাত্রার অনুমতি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসায় এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে। এরপরও দুপুরের আগেই ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএম