বুধবার হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক উত্তপ্ত শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত আন্ডারসেক্রেটারি (কম্পট্রোলার) জুলস হার্স্ট।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে জুলস হার্স্ট জানান, এই খরচের সিংহভাগই চলে গেছে গোলাবারুদ এবং অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের পেছনে। এছাড়া যুদ্ধের ময়দানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং নিয়মিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে কোষাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে।
ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি: কেবল অস্ত্র নয়, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যার সংস্কার ব্যয় এই হিসাবের বাইরে।
অতিরিক্ত তহবিলের শঙ্কা: পেন্টাগন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের কাছে খুব শীঘ্রই আলাদা ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’ চাওয়া হতে পারে।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যুদ্ধ?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করেছেন বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। আজকের শুনানিতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব আসার পর সেই বিতর্ক আরও চরম রূপ নিয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, যখন দেশে সাধারণ মানুষের জন্য বাজেটে টান পড়ছে, তখন একটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল সামরিক বাজেটের সপক্ষে এই যুদ্ধব্যয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
শুনানিতে অনেক আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, যুদ্ধের যে গতি এবং গোলাবারুদ ব্যয়ের যে হার, তাতে করে মার্কিন সামরিক ভাণ্ডারে টান পড়তে পারে। পেন্টাগন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নিরূপণের কাজ এখনো চলছে এবং এই অংক আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের খরচ যদি এভাবে বাড়তে থাকে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধবিরতির চাপ কেবল অভ্যন্তরীণভাবে নয়, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও তীব্রতর হবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
এমএম