জিসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরব ও কাতারের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জোটটির সদস্য দেশ হলো বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকার ওয়াদিয়ান এবং কাতারের আল রেকায়াত ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বাহরাইন ও কুয়েতে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।

জিসিসি আরও জানায়, এসব হামলা হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সমঝোতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য। জিসিসির সনদ ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুসারে, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে তা পুরো জোটের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে ইরানের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক শান্তি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করে এর পরিণতির দায় তেহরানের ওপর বর্তানোর কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি এ ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জিসিসি। একই সঙ্গে সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

সূত্র: গালফ নিউজ।

এস