সেনা সদস্যরা জানান, লোকজনের ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে তাদের গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত একমাসে জিএইচএফ ত্রাণ শিবিরে কমপক্ষে ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হারেৎজের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়েই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি সেনারা।

হারেৎজ জানিয়েছে যে তারা জানতে পেরেছে, সামরিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডকে ত্রাণ শিবিরগুলোতে সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছে।

গাজায় বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির নিন্দা ইউরোপীয় নেতাদেরগাজায় বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতির নিন্দা ইউরোপীয় নেতাদের

প্রতিবেদনে, সেনারা বর্ণনা করেছেন, কীভাবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সাহায্যপ্রার্থীদের ভিড়ের দিকে গুলি চালিয়েছিল। যাতে ত্রাণপ্রার্থীরা সেনাবাহিনীর কাছে না আসতে পারে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে সাধারণত টিয়ারশেল বা রাবার বুলেটের মতো প্রাণঘাতি নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার স্বীকৃত। কিন্তু ইসরাইলি সেনাবাহিনী তা না করে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

এক ইসরাইলি সেনা বলেছেন, ‘এটি একটি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র। যেখানে আমি ছিলাম, প্রতিদিন এক থেকে পাঁচজন গুলিতে মারা যেতো।’

ওই সেনা আরো বলেন, ‘তারা ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর এমনভাবে গুলি চালায়, যেন তারা আক্রমণকারী বাহিনী। ইসরাইলি বাহিনী ভিড় নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস ব্যবহার করে না, তারা টিয়ার গ্যাস ছোড়ে না, তারা যা ভাবতে পারে তার সবকিছুই ছোড়ে। ভারী মেশিনগান, গ্রেনেড লঞ্চার, মর্টার সবকিছু।’

ইসরাইলি হামলায় একদিনে ৭১ ফিলিস্তিনি নিহতইসরাইলি হামলায় একদিনে ৭১ ফিলিস্তিনি নিহত

প্রায় একমাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত বিতর্কিত ত্রাণ শিবির গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) খোলা হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং জিএইচএফ ত্রাণ সরবরাহ কাজ পরিচালনা করে। ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার ঘটনা ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং জিএইচএফ হয় অস্বীকার করেছে অথবা এসব ঘটনা খাটো দেখানোর চেষ্টা করেছে।

গাজার বাসিন্দারা বলছেন, এসব ত্রাণ শিবির এখন তাদের জন্য মরণফাঁদ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ফিলিস্তিনিদের সামনে এখন দু’টি পথ খোলা। হয় অনাহারে মরতে হবে নাহয় জিএইচএফ থেকে সামান্য খাবার আনতে গিয়ে গুলিতে মরতে হবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজার অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান আরো বাড়াতেই মূলত সব মানবিক বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ইসরাইল।

এমএম