বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। সেখানেই তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আকাশে আধিপত্য বজায় রাখা ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অন্যতম ভিত্তি। অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ হয়নি। নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং সামনে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও বলেন, প্রয়োজন হলে ইরানের ওপর আবারও হামলা চালাতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত। তার দাবি, আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফায়ও হামলা চালানো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। গত দুই দিনে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এর আগে গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পৌঁছায়। এর উদ্দেশ্য ছিল সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করা।

তবে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওই সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। এরপরই নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়।

সূত্র: আনাদোলু

এনএইচ