জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাইরে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বান্তারগেবাং ল্যান্ডফিলে রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে এই ভূমিধস ঘটে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘উদ্ধারকারীরা ব্যাকহোসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পথ তৈরি করছেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পেতে অনুসন্ধানী কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে ভারি বৃষ্টির পর এই ধসের ঘটনা ঘটে।

জাকার্তা ও এর উপশহরগুলো প্রায় চার কোটি ২০ লাখ মানুষের আবাসস্থল এবং প্রতিদিন আনুমানিক ১৪ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন করে।

বান্তারগেবাং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত ল্যান্ডফিল, যা ১১০ হেক্টরেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং সেখানে প্রায় পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টন আবর্জনা জমা রয়েছে বলে স্থানীয় পরিবেশ সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পরিবেশমন্ত্রী হানিফ ফাইসোল নুরোফিক ২০০৮ সালের উন্মুক্ত ল্যান্ডফিল নিষিদ্ধের আইন থাকা সত্ত্বেও আবর্জনা জমতে দেওয়ার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় তিনি সম্প্রচারমাধ্যম কমপাস টিভিকে বলেন, ‘বান্তারগেবাং জাকার্তা প্রশাসনের অধীনে, তাই এর দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের জন্য একটি তিক্ত শিক্ষা হওয়া উচিত, যাতে জাকার্তা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে পারে।’

গত মাসে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এমন ইন্দোনেশিয়ার বেশিরভাগ ল্যান্ডফিল ২০২৮ সালের মধ্যে তাদের ধারণক্ষমতা অতিক্রম করবে।

তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে ৩৪টি বর্জ্য-থেকে-জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে সরকার ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যেখানে আবর্জনা পোড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

২০০৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি ল্যান্ডফিলে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ ও ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৪৩ জন নিহত হয়েছিল।

এস