গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ দারুণভাবে চলছে। আমরা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। ছয় সপ্তাহের যে পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতি আমরা ইতোমধ্যে করে ফেলেছি।

তিনি আরও বলেন, যেকোনও সময় আমি চাইলে এই যুদ্ধ শেষ হবে।

ফ্লোরিডার ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাদের ড্রোন কারখানাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও তলানিতে। তিনি বলেন, সামরিক দিক থেকে তাদের আর কিছুই নেই।

ইরানি তেলক্ষেত্রে হামলা চালানোকে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পথ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি প্রথমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানে, তবেই কেবল তাদের তেলক্ষেত্রে হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে ইরানি তেলক্ষেত্রে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে অবহিত করতে বলেছে। মূলত জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হানলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের কণ্ঠে। বুধবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সব লক্ষ্য অর্জন এবং চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত কোনও সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধ চলবে।

অন্যদিকে ইরানও দমে যাওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদফতর খাতাম আল-আনবিয়া’র কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল চাইলেই যুদ্ধ শেষ করতে পারবে না। শত্রুরা পরাজিত ও অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও জানিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করলেও তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অতীতের ‘তিক্ত অভিজ্ঞতার’ কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে ইরান।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এমএম