কারও হাত নেই, কারও পা নেই, কারও নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে, আবার কারও চেহারাসহ পুরো শরীর ঝলছে গেছে। বীভৎস ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর রূপনগরের মনিপুর এলাকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে। তারা এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আর অভিভাবকরা হয়ে পড়েছেন নির্বাক। ডাক্তাররা শিশুদের একটু স্বস্তির জন্য সর্বচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোন কোন শিশুর অবস্থা দেখে তাদের চোখ হয়ে উঠছে ছলছল।
ওবায়দুর রহমান নামে রূপনগরের এক বাসিন্দার দাবি ওই ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
বিকেল সোয়া ৫টার মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে আহত ১১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতজনই শিশু।
এ ঘটনায় ৪ শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকাল ৪টার দিকে মনিপুরের ১১ রোডের মাথায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন শিশু, দুই পুরুষ ও একজন নারীও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, এক নারী ও তিন শিশুসহ চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিস্ফোরণে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে বলে জানান সোহরাওয়ার্দীর এই চিকিৎসক।
এদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক কুমার দাস জানান, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।
এএইচ





