এ সমস্যাসহ বিদেশে কুটনৈতিক অবস্থান আরও জোড়ালোা করতে হলে ঘর গোছাতে হবে বলেও তিনি জানান।
বৃহসপতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক জবাবে এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ভারতের ভিসা বন্ধ এবং অন্য অনেক দেশেও বন্ধ, এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কোনো উদ্যোগ নিতে পারে কিনা জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের ঘর গোছাতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেলস এজেন্সি। আপনি যা তৈরি করতে পারবেন সেটাই আমি বিক্রি করতে পারব। আপনি যদি মিথ্যা তথ্য দেন, ভুল পাসপোর্ট দেন ২০ বছর আগে এটা সমস্যা ছিল না।
তৌহিদ হোসেন বলেন, যে কোনো মুহূর্তে একটা পাসপোর্ট একজনের পাঁচটা পাসপোর্ট ইস্যু হইছে-এ রকম উদাহরণও আছে। সেগুলো এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে।
উপদেষ্টা বলেন, কাজেই মিথ্যা তথ্য একটা প্রধান সমস্যা আমাদের। এটা এখনো আগের মতো চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু এটা সহজে ধরা পড়ে যায়। এ কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ঘর ঘোচাতে হবে। এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম যেন না হয় সেটা দেখতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে আমরা এটা ঠিক করে নিয়ে আসতে পারব।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কান্ট্রি অফিস নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নিজ স্বার্থে এ কার্যালয় খুলতে দিয়েছে। বিষয়টি এমন নয় যে তাদের প্রস্তাবের পরে একটি চুক্তি সই করে দিয়েছি। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় নিয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ যাতে ক্ষুন্ন না হয়, সেটি দেখেই অনুমোতি দেওয়া হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে এটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে না, পক্ষেই থাকবে।
কার্যালয় কবে চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সই করেছি, এখন খুব তারাতারি করা সম্ভব।
চীনের নদীতে বাঁধ নির্মান নিয়ে প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা নদীগুলোর উৎস দেশের ভেতর নেই। এসব নদীর উপরের অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মান হয়েছে, হতে থাকবে, তা আমরা ঠেকাতে পারবো না। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, এসব অবকাঠামোর ফলে যাতে আমাদের ক্ষতি না হয়। আর যদি হয়, সেটিও যাতে খুব সীমিত থাকে। এ চেষ্টা আমাদের চালু থাকবে।
তিনি বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন যে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটা বাধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না। একটি নতুন পদ্ধতি তারা বের করেছে। কয়েক ধাপে পানির প্রবাহকে ব্যবহার করবে চীন। নিশ্চয়তা দিয়েছেন পানি প্রত্যাহারের কোনো প্রকল্প এর মধ্যে নেই। ফলে আমাদের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পানি প্রবাহের তথ্য আদান প্রদান হোক, সেটি বিচার–বিবেচনা করা হবে। তার মানে এই না যে এ বাধ তারা নির্মান করবে না। বাংলাদেশের ক্ষতি যাতে না হয়, আমরা সে চেষ্টা করবো। এখানে ভারতেরও স্বার্থ রয়েছে, তারাও বিষয়টি দেখছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো নদীর উৎপত্তিস্থল নয়। এঠা আমাদের মনে রাখতে হবে। সে জন্য দেশের কল্যাণ হয় এমন সর্ব্বোচ্ছ চেষ্টা আমরা করছি এবং বরবোও।
মাইলস্টোন ট্রেজেডিতে সিঙ্গাপুর, ভারত ও চীনের পাশাপাশি কোন দেশের চিকিৎসা সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি দেশ আমাদের নিজ থেকে সহায়তা দিতে চেয়েছে। এ দেশগুলো ছাড়া আর কারও প্রস্তাব নেই এবং আর সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। বার্নের ক্ষেত্রে আমরা যেটুকু সহযোগিতা পেয়েছি, তাই যথেষ্ট।
ভারতের চিকিৎসক দলের সফরে দু’দেশের শীতলতা কেটে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে উভয় পক্ষের সন্মান রক্ষা করে সুসম্পর্ক চায়। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায় না, এ ধরনের কথা সরকারের কেউ বলেনি। সহযোগিতায় ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসাকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন উপদেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি ঢাকা কেনো করলো– উত্তরে তিনি বলেন, যারা এর দরকষাকষি করেছে, প্রশ্নটি তাদের করেন। দরকষাকষি শেষ হয়নি, মাঝপথে আমি একটা কথা বলা ঠিক হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি এ দরকষাকষি নিয়ে অন্ধকারে? উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্ধকারে নয়। অপনারা বরং কয়েকদিন অপেক্ষা করুন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানকে স্বাগত না জানানো নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমন কোনো কথা আমি বলিনি। উনি এখনও যোগ দেননি। তিনি এখানে যোগ দেবেন, নাকি অন্য কোনো দায়িত্ব পাবেন, সেটি এখনও নির্দিষ্ট হয়নি।তবে উনাকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমিও প্রথম উপস্থাপন করেছিলাম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফোনকলের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ইরান থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ফোন দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মাইনস্টোন স্কুলে দুর্ঘটনার ব্যাপারে শোক প্রকাশ করেছে এমনকি ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসে শোক বইিতে সই করেছে শোক জানিয়ে।