মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সরকার একতরফাভাবে করতে চায় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধানে যেসব পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেগুলো নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলও আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে তাদের বক্তব্য বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেছিলেন, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও আলোচনার সুযোগ খোলা থাকবে এবং কেউ লিখিত মতামত দিলে তা কমিটি বিবেচনা করবে।
বিশেষ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে। কমিটি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, এসব মতামত পর্যালোচনা করে বিশেষ কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবিধান সংশোধনের বিল প্রস্তুত করবে। এরপর সংসদে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন দলের মতবিনিময়ে কেউ দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করার পক্ষে মত দিয়েছে, আবার কেউ প্রক্রিয়াটি আরও বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের কিছু বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে বলেও বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, সংসদ সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন আনলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
বিশেষ কমিটি আগামী সময়ে আরও ধারাবাহিক বৈঠক করবে বলে জানা গেছে। কমিটির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা এবং তা সংসদে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে বলেছিলেন, দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চায় এবং সংবিধান সংশোধনও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে চায়।
এমএম











