বুধবার রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (বিআইএম) আয়োজিত ‘ইয়ুথ অ্যান্ড এমপ্লয়ার্স মিট’-এ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে নেই (নিট) এমন যুবদের কারিগরি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সামাজিক-আবেগিক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য তাদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়ানো। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আর্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ জন্য শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুবদের প্রয়োজনীয় দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তিনি , বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব কাজী মোকলেছুর রহমান বলেন, দক্ষতা প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে হবে কর্মসংস্থান ও আয়মুখী উদ্যোগ। যুবদের দক্ষতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ থেকে কর্মজগতে তাদের প্রবেশ সহজ করতে প্রকল্পটি কাজ করছে বলে জানান তিনি।
কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রশিক্ষণকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার।
তিনি বলেন, আর্ন শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি যুবদের সম্ভাবনাকে টেকসই জীবিকার সুযোগে রূপান্তরের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাংকের ইমপ্লিমেন্টেশন স্পেশালিস্ট রওনক জাহান যুব নারীদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে যুব ও নিয়োগদাতারা একসঙ্গে দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে আলোচনা করেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন, তা তুলে ধরেন নিয়োগদাতারা। অন্যদিকে চাকরি খোঁজা, কর্মজীবনে প্রবেশ এবং ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের কথা জানান যুব অংশগ্রহণকারীরা।
‘ইয়ুথ টেক দ্য মাইক’, ‘এমপ্লয়ার্স কনভারসেশন’ ও ‘ইয়ুথ ক্যাফে’সহ বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক পর্ব ও প্যানেল আলোচনায় প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সহায়তা এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ কীভাবে যুবদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন যুব প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারীরা।
আর্ন প্রকল্পটি কেয়ার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করছে তার যৌথ অংশীদার সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি), দ্য আর্থ সোসাইটি, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), জাগো ফাউন্ডেশন, মিরপুর অ্যাগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল (এমএডব্লিউটিএস), তাহজিংডং, আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেপ) বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সঙ্গে। প্রকল্পটি রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর–প্রোগ্রামস এমেবেট মেন্না; কেয়ার ইউএসএ-এর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার, ইয়ুথ স্কিলিং সারা জনসন; কেয়ার বাংলাদেশের ডিরেক্টর–কোঅর্ডিনেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ আমানুর রহমান; প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী; ব্যাংক এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মুর্তজা আলী; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী; এবং ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. কাওসার উদ্দিন চৌধুরী।
এমএম











