গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও এইচআরএসএসের তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী, চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেসবুকে লাইভ করার পর সাথী আক্তারের প্রতিষ্ঠানের সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে তার বিচার দাবী করেন। পরে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভিডিওতে সরকারবিরোধী কিছু ছিল না এবং ভিডিওর কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। এসব বক্তব্য ও ঘটনার ধারাবাহিকতায় তাঁর আটক ও কারাগারে পাঠানোর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ৩১, ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গ্রেফতারসংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। একইভাবে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (ICCPR) ৯ ও ১৯ অনুচ্ছেদে নির্বিচার আটক থেকে সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা আসন্ন আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শর্তে প্রয়োগযোগ্য। কেবল জনঅসন্তোষ বা সমালোচনামূলক বক্তব্যের ভিত্তিতে এ ক্ষমতার প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। জনতার ক্ষোভ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের দায়িত্ব; সেই চাপের কারণে কোনো নাগরিকের স্বাধীনতা খর্ব করা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

এ প্রেক্ষাপটে এইচআরএসএসের দাবি

সাথী আক্তারের গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর আইনগত ভিত্তি এবং ১৫১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। তাঁর জামিন ও মুক্তির বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আইন প্রয়োগে কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রকে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্বিচার গ্রেফতার থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সাথী আক্তার ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাঁদের সব ধরনের হুমকি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।

এইচআরএসএস মনে করে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়। নাগরিককে জনতার চাপ ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাঁর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে এইচআরএসএস।

এমএম