শুক্রবার বিকেলে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে অপারগতার কথা উল্লেখ করেছেন।
দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করলে অথবা পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করলে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্টের সেবা পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও তার জন্য প্রযোজ্য থাকবে।
সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তার বাসভবনে একটি সরকারি টেলিফোন সংযোগ এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে এর বিল সরকার বহন করবে।
এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসুবিধা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগও তার জন্য বহাল থাকবে।
অবশ্য কোন রাষ্ট্রপতি আগে সরকারের কোন পদে থেকে অবসর গ্রহণ করে থাকেন। তার অভিপ্রায় অনুযায়ী যে কোন একটির অবসর সুবিধা নিতে পারবেন। তিনি চাইলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অবসর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। আর ইচ্ছা করলে আগের চাকুরিজীবী হিসেবে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
১৯৭৫ প্রণীত রাষ্ট্রপতি অবসর সুবিধা আইনটি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৬ সালের সংশোধনীতে একটি বিতর্কিত পরিবর্তন আনে। অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি আদালত ঘোষণা করলে অবসর সুবিধা পাবে না বলে আইনে যুক্ত করা হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আদালতে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাগ্রহণকে ‘অবৈধ ঘোষণা’ করার বিষয়টিকে ইস্যু করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে রাষ্ট্রপতির অবসর সুবিধা বঞ্চিত করতে আইনে নতুন এই বিধানটি যুক্ত করা হয়।
এমএম