মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চলচ্চিত্র আরো বেশি করে নির্মাণ করার জন্য প্রযোজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসকে যত বেশি সম্ভব চলচ্চিত্রের পর্দায় তুলে ধরতে হবে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চিত্রনায়ক ফারুক (আকবর হোসেন পাঠান ফারুক) এবং চলচ্চিত্র নায়িকা ববিতা (ফরিদা আখতার ববিতা) অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। চঞ্চল চৌধুরী তাঁর ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং নুসরাত ইমরোজ তিশা ‘অস্তিত্ব’ চলচ্চিত্রের জন্য ও কুসুম সিকদার ‘শংখচিল’ চলচ্চিত্রের জন্য যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংগ্রামের চিত্রগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরা একান্তভাবে প্রয়োজন। কারণ আমাদের স্বাধীনতা দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম আর ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের ফসল।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সময় একটা কথা মনে রাখতে হবে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনোদিক থেকেই আমরা পিছিয়ে থাকতে চাই না। কাজেই শিল্পের দিক থেকে এমনকি চলচ্চিত্র শিল্পে আমরা বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করব। কারণ এ দেশের এফডিসি এবং চলচ্চিত্র শিল্পের জন্ম আমার বাবার হাত ধরেই।’

আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, ‘মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র যেন নির্মাণ হয়, যা আমদের সমাজ সংস্কারে ভূমিকা রাখতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা সব সময় চাইতেন আমাদের চলচ্চিত্রগুলো যেন দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে তুলে জনগণকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে।’

অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা লাভকারী চিত্রনায়ক ফারুক এবং চিত্রনায়িকা ববিতা নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ এবং তথ্যসচিব মো. আব্দুল মালেক।

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’র জন্য ফরিদুর রেজা সাগর, ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্রের জন্য অমিতাভ রেজা চৌধুরী শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার লাভ করেন। নাট্য অভিনেতা ও কাহিনিকার তৌকীর আহমেদ তাঁর ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার, রাশেদ জামান শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক হিসেবে উত্তম গুহ, শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে গাজী মাজহারুল আনোয়ার, শ্রেষ্ঠ সুরকার এবং সংগীত পরিচালকের পৃথক দুটি ক্যাটাগরিতে ইমন সাহা এবং শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে মেহের আফরোজ শাওন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে শহীদুজ্জামান সেলিম, সেরা অভিনেতা পার্শ্বচরিত্রের জন্য যৌথভাবে আলিরাজ ও ফজলুর রহমান বাবু এবং তানিয়া আহমেদ শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্বচরিত্রের পুরস্কার লাভ করেন।

পরে এ প্রজন্মের চিত্রনায়ক ফেরদৌস এবং চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার উপস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : বাসস।