বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসেতিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রতীকী আন্দোলন চলছিল। সে সময় আন্দোলনকে আরো গতিশীল করতে ক্যাম্পাসে ফিরে পুনর্গঠিত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তখনও ছয়জন সমন্বয়ক ডিবি কার্যালয়ে আটক ছিলেন এবং তাদের মুক্ত করাও আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

তিনি আরো বলেন, ২ আগস্ট রাতেই অনলাইনে এক দফা ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন তারা। তার মতে, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনসমক্ষে এক দফা ঘোষণা দেওয়ার পক্ষেই সবাই ছিলেন। কারণ, রাতের বেলায় ঘোষণা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট মহল থেকে চাপ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম বলেন, অসহযোগ আন্দোলনের ধারণা প্রথম তিনিই সামনে আনেন। এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ অবগত আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যদিও সে সময় অনেকেই এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, তবে আন্দোলনের সঙ্গে সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার কৌশল হিসেবে এটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, ওই রাতেই সাদিক কায়েমকে দিয়ে এক দফা ঘোষণার একটি খসড়া প্রস্তুত করানো হয়, যা পরদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসিফ মাহমুদ পাঠ করেন।

মাহফুজ আলম আরো বলেন, সে সময় আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গেও আলোচনা চলছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন সাধারণ মানুষের মনোভাব এক দফার দাবির দিকে চলে গিয়েছিল। তিনি সিনিয়রদের জানান, দ্রোহযাত্রা থেকে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ অন্যরা সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যাচ্ছেন। ফলে মানুষ আর তাদের কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকবে না, তাই এক দফার ঘোষণায় যাওয়াই উচিত বলে তিনি মত দেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ওই বৈঠকে তাকে বলা হয়েছিল, তখনই এক দফায় না গিয়ে ৯ দফা প্রত্যাহার করে চার দফায় আসার কথা ভাবা হচ্ছিল। ওই চার দফার মধ্যে ছিল- ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তা প্রদান।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব দেন এবং তিনি নিজে এক দফা নিয়ে ভাবার কথা বলেন। কারণ, সে সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ছিল এবং আন্দোলন হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এনএইচ