ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আলোচনা সভা ও সেমিনারে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এ জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় জনগণ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবের সভাপতিত্বে সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিএমএইচের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, সাবেক রাষ্ট্রদূত সাকিব আলী এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলী মিয়া। আরও বক্তব্য দেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হালিম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি ডা. মারুফ শাহরিয়ার এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুর উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মতো ডেঙ্গুও বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। অথচ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হলেও প্রতিরোধে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। রাজনীতি যদি কেবল ক্ষমতা অর্জনের জন্য হয়, তাহলে জনগণের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা থাকে না। জনগণের প্রতি সরকারের চেয়ে বিরোধী দলের দায়বদ্ধতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী দলকে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রমে দেখা গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য তেমন কর্মসূচি দৃশ্যমান নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজনৈতিক দল ও সরকারের ভূমিকা আরও বেশি জরুরি। সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার দাবি করলেও জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশনের মতো অন্যান্য সামাজিক সংগঠনকেও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।