যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশকে পাতানো রায় উল্লেখ করে এর জন্য ক্ষমতাসীনদের কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের নেতারা।

বুধবার সকালে সাঈদীর রায়ের পর নগরীর চেরাগী মোড়ে আয়োজিত তাৎক্ষণিক এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এ মন্তব্য করেন। একইসময় নগরীতে বিক্ষোভ মিছিলও করে গণজাগরণ মঞ্চ।

সমাবেশে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘পাতানো আর পতনের দুরুত্ব খুব বেশী নয়। অতীতে যারাই পাতানোর খেলায় মেতেছে তাদের পতন হয়েছে। গদি টিকিয়ে রাখার জন্য প্রহসনের এ রায়ে ক্ষমতাসীনদের পতন নিশ্চিত।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনীতির সমীকরণ থেকে অতীতেও বিভিন্ন সময় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি, বারবার জেগে ওঠেছে।’

দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘পাতানো এ রায়ে বাংলার আপামর জনগণের মনে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে, সে আগুনেই মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

সমাবেশে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান বলেন, ‘আজকের রায় বাংলাদেশের জনগণ কোনভাবেই মেনে নেয়নি। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে দেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত করা। কিন্তু সাঈদীর মত প্রতিষ্ঠিত রাজাকারদের এভাবে পার যাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পরিবার ও দেশপ্রেমিক জনগণকে হতাশ করেছে।

আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, ‘এ রায়ে মুক্তিযোদ্ধে শহীদদের অপমান করা হয়েছে। আদালত জনগণের প্রত্যাশার কোন মূল্য দেয়নি।

সমাবেশে এছাড়াও চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চের সদস্য সচিব ডা. চন্দন দাশসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সমাবেশের আগে রায়কে প্রত্যাখান করে নগরীর চেরাগী মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ। মিছিলটি নগরীর প্রেস ক্লাব হয়ে পুনরায় চেরাগী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে করা সাঈদীর আপিল মামলার চূড়ান্ত রায়ে সাজা কমিয়ে তাকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় দেন। অন্য ৪ বিচারপতি হচ্ছেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে আপিল বিভাগের রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে ৫টি অভিযোগ। এর মধ্যে ৩টিতে অর্থাৎ ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু, একটিতে অর্থাৎ ৮ নম্বর অভিযোগে ১২ বছর ও একটিতে অর্থাৎ ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে সাঈদীকে।

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ