মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৪টায় এ দাবিকে সামনে রেখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ ও বন অধিদপ্তর কার্যালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাউফলের ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আপনারা জানেন, বাউফল একটি নদীবেষ্টিত এলাকা। তেতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নাজিরপুরসহ ছয়টি ইউনিয়ন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ নদীভাঙনের শিকার হয়ে পায়ের তলার মাটি হারিয়েছে। বসতভিটা, কবরস্থান, স্কুল, মসজিদ, মন্দির থেকে শুরু করে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হাজারো পরিবার ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি বলেন, উপদেষ্টার কাছে আমরা কিছু জরুরি দাবি তুলে ধরেছি সেগুলো হলো, নাজিরপুরের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১০ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লকের মাধ্যমে টেকসই ভাঙন রোধ করতে হবে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। নদীতীর সংরক্ষণের পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক গড়ে তোলার বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

ড. মাসুদ বলেন, আমরা যে স্মারকলিপি উপদেষ্টার কাছে দিয়েছি, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন এবং মৌখিক নির্দেশও দিয়েছেন। আমাদের আশার জায়গা তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, তিনি আমাদের সঙ্গে বৈঠকের আগেই বাউফলের ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে স্টাডি করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।

বৈঠকে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চারটি তাৎক্ষণিক অঙ্গীকার করে জানান, নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ। নাজিরপুরের ঝুঁকিপূর্ণ ১০ কিলোমিটারে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলানো হবে। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা। বাউফলের ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলো রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান নজরুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলামিন, আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা মনে করি, এবার সত্যিই কার্যকর উদ্যোগের সূচনা হলো। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই তা প্রমাণ হবে।

এনএইচ