বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাস সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বান্দরবান স্টেশনে সাঙ্গু নদীর পানির স্তর ১৪ দশমিক ৮০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপরে। অন্যদিকে লামা স্টেশনে মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর ১১ দশমিক ৮০ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার বেশি। বর্তমানে দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৬৯টিতে পানি বেড়েছে, ৫৩টিতে কমেছে এবং পাঁচটির পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও কোনো স্টেশন এখনো বন্যা সতর্কসীমা অতিক্রম করেনি, তবে নদীসংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হিসেবে বান্দরবান ও কক্সবাজার রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতিভারী এবং ভারতের মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে দেশে সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে। এছাড়া লামায় ২১৮, বান্দরবানে ১৯৫, ভৈরব বাজারে ১৯৩, ইটাখোলায় ১৮৮, দেওয়ানগঞ্জে ১৮৪, রাঙামাটিতে ১৬৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫৬, চিলমারীতে ১৫০, পাঁচপুকুরিয়ায় ১৪৮ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মাওসিনরামে ১৮৩, চেরাপুঞ্জিতে ১২৬, আর কে এম সোহরায় ১১৬, কোচবিহারে ১০৪ এবং আগরতলায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিন দ্রুত বাড়তে পারে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান ও কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীটি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে সুরমা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
এস