বুধবার (৮ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দফতরে মূলধারার অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন আশ্বাস দেন। বৈঠকে মন্ত্রী সম্পাদক ও প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে সেগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকরা জানান, দেশের মূলধারার অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগণের তথ্যচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সরকারি নীতিগত সহায়তার অভাবে এ খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ২৮২টি এবং আরও কয়েকশ আবেদন প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে, নিবন্ধন ছাড়া শুধুমাত্র ডোমেইন কিনে ও সামাজিক মাধ্যমের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে কয়েক হাজার ওয়েবসাইট নিজেদের অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে পরিচালনা করছে। সাধারণ পাঠকের পক্ষে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্মের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেই এ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। যেহেতু অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনার জন্য সরকার নির্ধারিত নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিদ্যমান, তাই সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কোনো নিউজ পোর্টাল পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
দেশে কোনো সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা রেডিও নিবন্ধন, লাইসেন্স বা ডিক্লারেশন ছাড়া পরিচালিত হয় না। একই নীতি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অন্তত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কোনও পোর্টালের নিউজ চালু করার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মনে করেন সম্পাদক ও প্রকাশকরা। অন্যথায় সংবাদের আড়ালে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ঝুঁকি বাড়বে।
নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সম্পাদক ও প্রকাশকরা বলেন, নিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগণের তথ্যচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সরকারি নীতি সহায়তার অভাবে নানা সংকটে রয়েছে।
তারা বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় অনলাইন গণমাধ্যমগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি বিজ্ঞাপন নীতিমালায় নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালকে অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় হবে না। কেবল সংবাদপত্রের পাশাপাশি নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ জারি করলেই সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন করতে পারবে। পরবর্তীকালে তথ্য অধিদফতর বা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, যেখানে পেজ ভিউ, নিজস্ব কার্যালয়, জনবলসহ প্রয়োজনীয় সূচক বিবেচনায় বিজ্ঞাপন বণ্টনের নীতিমালা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
মন্ত্রীকে আরো জানানো হয়, বিপুল ভর্তুকি দিয়ে চলা বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস এই সুবিধা নিতে পারে। সরকারি বিজ্ঞাপন বাসসে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সরকারের কোষাগারের ওপর চাপ কমতে পারে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও পেশাদার অনলাইন গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন তারা।
সম্পাদকরা নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য বিদ্যমান বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকা নবায়ন ফি বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, অন্যান্য গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে নিয়মিত নবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে অনলাইন গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এ ধরনের বার্ষিক নবায়ন ও ফি বহাল রাখার যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্যালয়ের ঠিকানা পরিবর্তনের দীর্ঘ ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করারও আহ্বান জানান সম্পাদকরা। তারা বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্যালয়ের ঠিকানা পরিবর্তনের বর্তমান প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দীর্ঘ, জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। একটি সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন মন্ত্রী ও সচিব পর্যায় পর্যন্ত অনুমোদনের জন্য যায়, দুটি গোয়েন্দা সংস্থার মতামত গ্রহণ করা হয় এবং তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিক দফায় ফাইল আদান-প্রদান করতে হয়। এই দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ফলে অযথা হয়রানি, বিলম্ব এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য অফিসের ঠিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ এবং সময়োপযোগী করতে তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। একই সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনারও অনুরোধ জানান।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী সম্পাদকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়গুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সোনালী নিউজের প্রকাশক মোহাম্মদ ইউনুস, জাগো নিউজের সম্পাদক জিয়াউল হক, বাংলা নিউজের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, খবর সংযোগের সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান পিন্টু, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, দেশ সমাচারের প্রকাশক শাহাদাত হোসেন, রাইজিং বিডির নির্বাহী সম্পাদক তাপস রায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিদেশে বা ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে বৈঠকে উপস্থিত হতে না পেরে বার্তা সংস্থা ইউএনবি'র নির্বাহী সম্পাদক নাহার খান এবং বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম প্রতিনিধি পাঠিয়ে এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান।
এস