ঝিনাইদহ ভুটিয়ারগাতি এলাকায় এক ব্যাক্তি কবরস্থান পরিস্কার ও নিয়মিত আসা যাওয়া করতে পারিবারিক করবস্থানে গড়ে তুলেছেন ওষধি বাগান। কেউ মারা গেলে সেখানে দাফনের জন্য যাওয়া হয়, বাকি সময়ে জায়গাটির খোঁজ কয়জনে রাখে। শিয়াল-কুকুরের আস্তানায় পরিনত হয় মানুষের শেষ ঠিকানাগুলো।

মাজেদুর রহমান এমন একজন যিনি পারিবারিক কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করেই ঘন গড়ে তুলেছেন ঔষধি গাছের বাগান। বর্তমানে যেখানে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা । অনেকে ঔষধি গাছের লতা-পাতা নিতে এই বাগানে আসছেন।আর এই বাগান এলাকাবাসিকেও অনুপ্রানিত করেছে।যার ফলে আরো একটি বাগান গড়ে উঠছে তাদের গ্রামেই।

ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভুটিয়ারগাতি গ্রামের জোয়ারর্দার বাড়ির চাচা নওশের আলী ও মাজেদুর রহমান ঔষধি বাগানের কারিগর। । মাজেদুরদের পারিবারিক কবরস্থান ৩৩ শতক জমির উপর। রয়েছে তার দাদা-দাদীর কবর রয়েছেও।

চাচা নওশের আলী আগেথেকেই ঔষধি গাছ নিয়ে কাজ করেন। গাজিপুরে একটি বাগানও রয়েছে তার। 

বর্তমানে বাগানে অশ্বগন্ধা, দশমূল, অশোক, ইসেরমূল, লাল চন্দন, সাদা চন্দন, দুধরাজ, মনিরাজ, কাঞ্চনফুল, বিষকরবী, রিটা, গুয়েবাবলা, হরিতকি, আমলকি, বহেরা, চুইঝাল, কুঁজ, মহা সমুদ্র কোস্তরী আদাসহ শতাধিক ঔষধি গাছ রয়েছে। বাগানে সারিবদ্ধ গাছের ফাঁকে রয়েছে ৫টি কবর। 

মাজেদুর রহমান জানান, এলাকার মানুষ তাদের প্রয়োজনমত মতো লতা-পাতা ও গাছেরছাল নিয়ে যান। প্রাচীরের গেটের চাবি পাশের এক বাড়িতে রাখা থাকে। যেকোনো মানুষ এখানে এসে তালা খুলে তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছেন।

ভুটিয়ারগাতি গ্রামের মামুনুর রহমান বলেন, জোয়ারদারদের এই উদ্যোগ তাদেরকে অনুপ্রানিত করেছে। এটা দেখে তাদের খুব ভালো লেগেছে। তাই তারাও উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের পারিবারিক কবরস্থানে ঔষধি গাছের বাগান করবেন। ইতোমধ্যে ৮৬ শতক জমি প্রাচীর দিয়েছেন। গাছ লাগানো শুরু করবেন বলেও জানান তিনি ।

তারেক/নাজিব