শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টায় সাভারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সভায় সংগঠনের সভাপতি আবদুল মালেক বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এতে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে। এ সুপারিশে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে। ফলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।

আবদুল মালেক বলেন, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বেতন কাঠামোয় বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও যদি কমিয়ে দেওয়া হয় এবং এর সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সরকারি কর্মচারীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা তৈরি হবে।

সভায় বক্তারা সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতন বহাল রাখার পাশাপাশি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা আরও বাড়ানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে স্বস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, সাভারের সাবেক মহাসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হক। এছাড়া সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শাহাবুদ্দিন মুন্সী, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম, আজিজুর রহমান ও নুরুজ্জামান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাদের খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আমিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক এবং প্রচার সম্পাদক এবি বেগমসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।

এস