মন্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইজিপির প্রশ্ন বরেন, “স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে?”

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে জুলাই শহীদদের স্মরণে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষ হওয়ার পরপরই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ফেটে পড়ে। উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানাতে থাকেন। তাদের অভিযোগ, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী এবং শহীদদের মহান আত্মত্যাগ সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এগিয়ে যান এবং বিক্ষোভকারীদের ইঙ্গিত করে প্রশ্ন করেন, “স্যার, এগুলোকে কি নিয়ে যাবো বাহিরে?”

আইজিপির এই প্রশ্নের পরক্ষণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাত উঁচিয়ে তাঁকে থামিয়ে দেন এবং কোনো ধরনের কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বারণ করেন।

আইজিপির এই মন্তব্যটি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শহীদ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনকারীদের প্রতি এমন শব্দচয়ন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকে লিখেছেন- “বিগত ১৭ বছরের পুলিশের ভূমিকা দেখার পরও বর্তমানে পুলিশের মানসিকতা বদলালো না।” কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, “পদ ধরে রাখার এটি হয়তো নতুন কৌশল।” আবার অনেকের মতে, “যাঁদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের পরিবর্তন, তাঁদেড়কেই আজ বের করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে; ক্ষমতার রূপ সত্যিই অদ্ভুত।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ পদের এক কর্মকর্তার এমন আচরণ, পেশাদারিত্ব ও প্রটোকল নিয়ে এখন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

এনএইচ