প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশন তদন্তকালে কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয় দেখতে পেলে এবং ওই ঘটনায় থানায় মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে। কমিশন চাইলে যেকোনো ঘটনার তদন্তও করতে পারবে। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ আনা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কাঠামো শক্তিশালী করা।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে। এই ইউনিট যেকোনো সময় নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শন করতে পারবে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। খসড়া বিলে আগে পূর্বানুমতির বিধান থাকায় তা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ওই বিধানে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।
কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সুপারিশ অনুযায়ী, কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত একজন নারী এবং একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়।
বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় পাঁচটি সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়। সংশোধিত বিলটি সংসদে উপস্থাপনের পর এসব পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিলটি পাসের জন্য সংসদে বিবেচনায় আসবে।
এস