বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার রূপসী বাংলা হলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে এক পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, শেরপুরসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বেশি এমন এলাকাগুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে। এসব এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো যানবাহনের ব্যবহারও বাড়ছে। নেত্রকোণা ও হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা পর্যালোচনার দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ককাস গঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা, নীতিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ককাসের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে প্রবাসী কর্মীদের শ্রম, ত্যাগ ও পরিবারের উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন। রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও এর পাশাপাশি উপার্জনকারী মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। অভিবাসীদের জন্য সঠিক তথ্য, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন, শোষণ থেকে সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পরিবারগুলো যেন এ অর্থ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে কাজে লাগাতে পারে, সেই সুযোগও তৈরি করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন, এমপি। এ সময় ককাসের অন্য সদস্যরাও তাঁদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আয়োজকেরা জানান, ককাসের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা, নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার, সুরক্ষা এবং জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এস
















