ডা. শামারুখ মাহাজাবীন শামার মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করে তার হত্যাকারীদের আটক ও ফাঁসির দাবিতে যশোরে মানববন্ধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে যশোরের প্রেসক্লাবের সামনে নিহত শামার আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।   

মানববন্ধন থেকে ডা. শামার শ্বশুর প্রাক্তন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতান, তার স্ত্রী ডা. জেসমনি আরা বেগমকে আটক এবং শামার স্বামী হুমায়ুন সুলতানসহ তাদের ফাঁসির দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে শামার পিতা নুরুল ইসলাম, আইডিইবি যশোরের সভাপতি আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি অনুপকুমার, সদস্য রুহুল আমিন, মমতাজ পারভিন, শ্রমিক লীগ নেতা আলাউদ্দিন প্রমুখ অংশ নেন।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাসায়  অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবীন শামার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ এনে ওই রাতেই শামার বাবা নুরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী হুমায়ুন, তার বাবা খান টিপু সুলতান ও মা জেসমিন আরাকে আসামি করা হয়েছে। ওই দিন রাতে হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরদিন শুক্রবার সকালে হুমায়ুনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ডের শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন আদালত। শুনানি শেষে আদালত হুমায়ুনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, খান টিপু সুলতান, তার স্ত্রী জেসমিন আরা ও ছেলে হুমায়ুন সুলতান পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে শামাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মামলা করার পর থেকে খান টিপু সুলতানের পক্ষ থেকে তাকে ভয় দেখানো হচ্ছে।

শামা হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। সম্প্রতি তিনি ওই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন। তিনি তার শ্বশুরের পরিবারের সঙ্গে ধানমন্ডি ৬ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বরে কেয়ারি তাজ নামের বহুতল ভবনের তিনতলায় থাকতেন।

শামার বাবা নুরুল ইসলাম যশোরের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী। তিনি যশোর শহরের বিমানবন্দর সড়কের স্থায়ী বাসিন্দা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে শামা ছোট ছিলেন।  

জেআই