রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া এবং ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে সকাল থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচিতে দুই শতাধিক প্রার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া, নিয়োগপত্র আটকে থাকার কারণ প্রকাশ করা, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দ্রুত দূর করার দাবিও রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর সব ধাপ শেষ করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও অনেক প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলেও শত শত প্রার্থী তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা জানান।

‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ ও ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ভেরিফিকেশনের পর দেড় হাজারের বেশি প্রার্থীর নিয়োগপত্র এখনো দেওয়া হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। একই সঙ্গে ২ হাজার ৩৮৫ জন প্রার্থী ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন বলেও তারা জানান।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ হাসান হক বলেন, অনেক কষ্ট ও সংগ্রামের পর তারা নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন। এখন বিষয়টি মানবিকভাবে পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরেক প্রার্থী আশিকুর রহমান বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা জানান, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে নয়, নিয়োগপত্রের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।

নিয়োগ পরীক্ষার তথ্য :

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

পরে ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। পাশাপাশি জেলা ভিত্তিক ফলাফলও প্রকাশ করা হয়।

এস