রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানের প্রধান ফটক দিয়ে বিকেল ৩টার দিকে ঢোকেন তারা। বাবা মো. সোহেলের দুই হাতে সেলাই করা ছোট কাঁথায় মোড়ানো সন্তানের মরদেহ। দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে জানতে কবরস্থান কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলেন মোহরার রবিউল ইসলামের সঙ্গে।
মৃত নবজাতকের মা মরিয়ম অভিযোগ করেন, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় তার সন্তানের অবস্থার অবনতি হয়। পরে আইসিইউ শয্যা না পাওয়ার কথা জানিয়ে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে এক দালালের মাধ্যমে নবজাতককে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
মরিয়ম বলেন, ‘হাসপাতালে আসার সময় বাচ্চা সুস্থ ছিল, নড়াচড়াও করছিল। বারবার চিকিৎসকদের জানিয়েছি। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা শুরু হয়নি।’ তার দাবি, সন্তান জন্মের পর কান্না না করায় তাকে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজনের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে তখন কোনো শয্যা খালি ছিল না বলে তাদের জানানো হয়।
শিশুটির বাবা সোহেল জানান, তাদের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে থাকেন। গত ৮ আগস্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। পরে নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মরিয়মের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালটিতে একদিনেই ৪৮ হাজার টাকা বিল করা হয়। নিজেদের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানিয়ে কান্নাকাটি করার পর ১৮ হাজার ৬১০ টাকা বিল পরিশোধ করে সন্তানের মরদেহ নিয়ে বের হন তারা।
আজিমপুর কবরস্থানের মোহরার রবিউল ইসলাম জানান, নবজাতকের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাবা-মাও হাসপাতালের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা চিকিৎসকের নাম জানাতে পারেননি। ফলে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আজিমপুরের নীরব কবরস্থানে কাঁথায় মোড়ানো ছোট্ট মরদেহটি যেন একসঙ্গে তুলে ধরল এক পরিবারের শোক, সংকটাপন্ন নবজাতকের চিকিৎসাসুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাব্যয়ের নির্মম বাস্তবতা।
এমএম