রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সংসদ সদস্য আদ্-দ্বীন নিয়ে কথা বলেছেন। বলেছেন দুই থেকে আড়াইশ টাকায় তারা ডায়ালাইসিস করে, ট্রু। উনারা বলেছেন, মাথা ব্যথায় কি মাথা কেটে ফেলা যায়? নো, কাটা যায় না। তবে যারা মাথা কাটে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নাকি অস্বীকার করবেন? করতে পারেন না। আনতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড টাইমে ইউনাইটেড হসপিটালের আগুন লেগে ছয়জন মারা গেছে, তখন তো ইউনাইটেডের লাইসেন্স সরকার বন্ধ করেনি, ওনারা এটা বলেছেন। বার্ন ইউনিটের আগুনের কথা বলেছেন। আই ডু এগ্রি। বাট দ্য ডিফারেন্স উইথ দ্য অকারেন্সেস অব আদ্-দ্বীন ইজ দ্যাট— ইউনাইটেড হসপিটাল অকারেন্স অ্যান্ড দ্য বার্ন ইউনিট ওয়াজ আ এক্সিডেন্ট অব ইলেকট্রিসিটি।’

তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় শিশুর মৃত্যুর বিবরণ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ্-দ্বীনের যে ঘটনা ঘটেছে, আপনারা কেউ যাননি, আজকে সংসদে কথা বলেন আপনারা। ছয়টা শিশু যখন চার হাত-পা বাইরিয়ে (ছোড়াছুড়ি) যখন বিছানায় কাঁদতেছিল বাঁচার জন্য, সে হাইপার-ক্যাপনিয়ায় (রক্তে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া), এসি বন্ধ করে দিয়েছে। ঘরে জানালা নেই। কাঁচে বন্ধ। কোনো অক্সিজেন নেই। ১৬-১৭ জন মানুষ, মায়েরা কাঁদতেছে, ছুটাছুটি করতেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘সেই বাচ্চাগুলি ছটফট করতে করতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য তারা মৃত্যুর উপরে ঢলে পড়েছে। মালিক দেখতে পর্যন্ত যাননি। আমি গিয়েছি পরের দিন, আমি দুজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি। দে এগ্রিড, এটা অবহেলার কারণে, অক্সিজেনের অভাবে বাচ্চাগুলি মারা গেছে। আমরা কি বসে থাকবো? উই ওয়ান্ট টু ব্রিং অল দ্য হসপিটাল আন্ডার ডিসিপ্লিন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে দেশের ১৮ কোটি মানুষ। সেই মানুষের স্বাস্থ্য, সেই মানুষের মূল্যবোধ আমাদের দেখতে হবে। সেই বাচ্চাগুলি মারা গেল, কয়টা টাকা ঘোষণা করেছে, তাও পুরা দেয়নি। ওরা আমার কাছে এসেছে।’

লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রতিটা জিনিসকে কেন নিজেদের দলীয় আদর্শের সঙ্গে একীভূত করেন? দলীয় আদর্শ দিয়ে দেশের বিরোধিতা করা যায় না, যা করেছেন ৭১ সনে। আই অ্যাম আ ফ্রিডম ফাইটার। আই মাস্ট ট্রাই ফর মাই নেশন। আমি আমার প্রধানমন্ত্রী নিয়োজিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আই মাস্ট লুক আফটার ওয়েলফার অব হেলথ অব মাই পিপল। আমার বাচ্চাগুলি মরে যাবে বিনা চিকিৎসায়, দ্যাট কান্ট বি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আই ওয়েন্ট দেয়ার, আই হার্ড দ্য ডক্টর, আই মেট মাদারস অব দ্যাট ফ্যামিলি। সেখানে হসপিটালের পারমিশন নিয়েছে, সেই হসপিটালের শয়তান একটা বেকারি কারখানা করেছে। গন্ধে ঢুকা যায় না। আর এমন বেকারি, এমন স্তূপ প্লাস্টিক বর্জ্যের, একটা আগুন লাগলে একটা রোগী, একটা অভিভাবক, একটা অ্যাটেন্ডেন্ট বাঁচতে পারবে না। এই কাজগুলি করেছে। মালিক একটা দিন দেখতে যায় নাই।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মালিকের অবহেলার কারণে, উনার একগুঁয়েমির কারণে সে পরিচালনা পর্ষদ চেঞ্জ করে উনার স্ত্রীকে চিফ এক্সিকিউটিভ করা হয়েছে। তারপরও আপনারা বলবেন— ওরা ঠিক, আমরা ঠিক না। মাথা তো কাটতে বলিনি, মাত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছি। আমরা দেখতেছি, সরকার দেখবে। কিন্তু এটা নিয়ে আপনারা দলীয়করণ করবেন না।’

এস