রংপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় করা মামলায় আটকে আছে অসংখ্য নিয়োগ। ফলে প্রধান শিক্ষক পদশূন্য রেখেই এবং ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে রংপুরের আট উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সমস্যার সমাধান কবে হবে তা না জানাটাই বেশি হতাশার। আর প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলে আসা রংপুরের শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখা-পড়ার প্রকৃতমান নিয়েও প্রশ্ন বিশিষ্টজনদের।

এ ছাড়া অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষায় সমস্যার মাত্রা দ্বি-গুণ হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ ও হতাশাঁ প্রকাশ করছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও ৬৪টিতে সহকারী শিক্ষক পদশূন্য রয়েছে।

এর মধ্যে রংপুর সদরে ৮টি, পীরগঞ্জে ২৬টি, গঙ্গাচড়ায় ১০টি, কাউনিয়ায় ৬টি, তারাগঞ্জে ৫টি, বদরগঞ্জে ১৯টি, মিঠাপুকুরে ২২টি ও পীরগাছায় ৩০টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া রংপুর সদরে ১০টি, বদরগঞ্জে ১৯টি, পীরগাছায় ২টি, মিঠাপুকুরে ৯টি, পীরগঞ্জে ১৫টি, তারাগঞ্জে ২টি, গঙ্গাচড়ায় ৩টি ও কাউনিয়ায় ৪টি স্কুলে সহকারী শিক্ষক ছাড়াই চলছে যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় লেখা-পড়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটছে বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিভাবক রংপুর সদরের রাশেদুল করিম, আহসানুল হক, পীরগাছার আহমদ আলী, রাবেয়া সুলতানা ও পীরগঞ্জের আব্দুল আউয়ালসহ আরো অনেকে।

এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার খলিলুর রহমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ ছিল। আগের মতো কোনো সমস্যা না থাকায় এখন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আর যে স্কুলে সহকারী শিক্ষক নেই সেখানে দ্রুত শিক্ষক পাঠানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

জেডআই